ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০১:০৯:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ০১:০৯:৫৯ অপরাহ্ন
পানামায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৭৪৬ আফটারশক



পানামায় গত সপ্তাহে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৭৪৬টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে।

পানামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেসের পরিচালক নেস্টর লুক বলেন, ‘তাত্ত্বিক ধারণা ও অতীতের তথ্য অনুযায়ী, এ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত আফটারশক চলতে পারে।’


তিনি জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটারেরও কম গভীরে। ভূমিকম্পে নির্গত শক্তির প্রভাবে ভূত্বকের টেকটোনিক ব্লকগুলো এখনো নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করছে। তবে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, আফটারশকগুলোর মাত্রা ধীরে ধীরে কমছে।

লুক আরো বলেন, চিরিকি ও বোকাস দেল তোরো এলাকায় রেকর্ড করা ভূমিকম্পগুলো পৃথক ফল্ট বা ভূচ্যুতি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেগুলোর সঙ্গে গত ৯ অক্টোবরের ভূমিকম্পের সরাসরি যোগসূত্র থাকা আবশ্যক নয়।

এদিকে পানামার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ভূমির পরিবর্তনের বিষয়ে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছেন গবেষকেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উপকূলের কিছু এলাকায় পাথর জেগে ওঠা এবং সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

লুকের ব্যাখ্যা, ভূচ্যুতির কারণে উপকূলীয় ভূমি উঁচু হয়ে উঠতে পারে কিংবা নিচে দেবে যেতে পারে। এতে ভূপৃষ্ঠের আকৃতিতেও পরিবর্তন ঘটতে পারে। এসব পরিবর্তনের পেছনে ভূচ্যুতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ভূতত্ত্ববিদেরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরীক্ষা করবেন।

এছাড়া পানির রঙ পরিবর্তনের খবরও খতিয়ে দেখছেন গবেষকেরা। কয়েকটি এলাকায় পানির রং ধূসর হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লুক বলেন, ভূমিকম্পের ফলে ভূগর্ভস্থ পানি বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। তবে এর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পানির রাসায়নিক পরীক্ষা প্রয়োজন।


দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লস সান্তোস প্রদেশের ইসলা কানাসের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর দ্বীপটি যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে লুক বলেন, দ্বীপজুড়ে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে কি না এবং সেই ফাটল সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন ভূতত্ত্ববিদেরা। এ ধরনের ফাটলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তা ভূচ্যুতির প্রমাণ হতে পারে।

এদিকে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১৫০টি যন্ত্র স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব জিওসায়েন্সেস। আর দেশব্যাপী আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০০টি সেন্সর।

সূত্র: আনাদোলু


নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ